মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১২

"যশোরেশ্বরী " পূজা স্মরণিকা এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান



সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, এম এম কলেজ, যশোর শাখা শুভ মহালয়া ১৪১৯ উদযাপন করে ১৫ অক্টোবর ২০১২ বিকাল ৩ টায়

"যশোরেশ্বরী " পূজা স্মরণিকা এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান


প্রদীপ প্রজ্বলন


সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, এম এম কলেজ, যশোর শাখা শুভ মহালয়া ১৪১৯ উদযাপন করে ১৫ অক্টোবর ২০১২ বিকাল ৩ টায়

বিগত আত্মা গনের জন্য প্রদীপ প্রজ্বলন করেন উপস্তিত সকলে


এই বছর পূজা অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ২৮০০০ এর অধিক মণ্ডপে

মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ এর তথ্য মতে, “এই বছর বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় এক হাজারের মত বেশি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছর বাংলাদেশে মোট ২৭৩৪৫টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হয়েছে আর এই বছর পূজা অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ২৮০০০ এর অধিক মণ্ডপে। ঢাকাতে ২০২ টি মন্ডপে পূজো অনুষ্ঠিত হবে যা গতবার থেকে ১০ টি বেশী ।
 
 

শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১২

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস চলছেই, এবার লালবাগের মন্দির

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস চলছেই, এবার লালবাগের মন্দির






রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে ফেলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর সংরক্ষণ কমিটি ২০০৯ সালে ঢাকার সংরক্ষণযোগ্য ঐতিহ্যবাহী ভবনের যে তালিকা করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা না পাওয়া এর একটি বড় কারণ। ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংসের সর্বশেষ শিকার হয়েছে লালবাগের শেখ সাহেব বাজারের দৃষ্টিনন্দন মন্দিরটি।

পুরান ঢাকার কোনো কোনো মহল্লার প্রায় সব কটি ঐতিহ্যবাহী ভবন ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ইতিহাসপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের তাগিদ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে নির্বিচারে পুরোনো স্থাপত্য ভাঙার হার বেড়েছে বলেই অনেকে মনে করেন।
পুরান ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায় এখন ঐতিহ্যবাহী ভবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি উত্তর মৈশুন্ডি এলাকায় গিয়ে কোনো পুরোনো ভবন পাওয়া যায়নি। সেখানে শত বছরের পুরোনো অন্তত ১০টি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় এসব ভবন ভাঙা হয়। সেখানে বহুতল ভবন হবে বলে তাঁরা শুনেছেন।
ওয়ারী থানার গোলক পাল লেনে রাস্তার পাশের কয়েকটি পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। লালবাগের আমলীগোলায় জগন্নাথ সাহার ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভেঙে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ। মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট কাটরা ও বড় কাটরার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী, সংরক্ষিত এসব স্থাপনার চারদিক ফাঁকা রাখার কথা থাকলেও চারপাশে বড় বড় ভবন তোলা হচ্ছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নগর সংরক্ষণ কমিটি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহ্যবাহী ভবনের যে তালিকা করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ কমিটির সভাও অনেক দিন ধরে হয় না। ২০০৯ সালে এ বিষয়ে প্রকাশিত গেজেটে পুরান ও নতুন ঢাকার ৯৩টি ভবন ছাড়াও চারটি অঞ্চল ও এর ১৩টি রাস্তাকে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছিল। কথা ছিল, ওই তালিকায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং এলাকা যুক্ত করা হবে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। তা ছাড়া অর্পিত সম্পত্তি আইনের কয়েকটি ‘দুর্বলতার’ সুযোগেও অনেক ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আবদুল মান্নান জানান, কিছু ভবনকে নোটিশ করা হয়েছে। কয়েকটি ভবনের মালিক ও ভাঙার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সংরক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ বছরের শুরুর দিকে সরকারি-বেসরকারি পাঁচজন প্রতিনিধির একটি উপকমিটি করা হয়। এ উপকমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, রাজউক স্থাপনা ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া কমিটি একটি নীতিমালা তৈরি করছে, যাতে মূল কাঠামো ঠিক রেখে পুরোনো ভবনগুলো সংস্কার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সর্বশেষ শিকার: পুরান ঢাকার সংরক্ষিত তালিকাভুক্ত ৩৩ প্যারীদাস রোডের বাড়ি, সংরক্ষিত এলাকা ২৮ উৎসব পোদ্দার লেনের দোতলা বাড়ি, টিপু সুলতান রোডের শঙ্খনিধি ভবনের একটি মন্দির, আলাউদ্দিন রোড ও ডালপট্টির একাধিক বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ প্রবণতার সর্বশেষ শিকার হয়েছে লালবাগের শেখ সাহেব বাজারে অবস্থিত জমিদার কেদারনাথ শীলের বাসভবনসংলগ্ন শৈলীময় স্থাপত্যের মন্দিরটি। ২৫৫ ও ২৫৬ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত স্থাপনাটি সপ্তাহ খানেক ধরে ভাঙা হচ্ছে। মন্দিরটি অনেক দিন ধরে কারখানা ও গুদামঘর হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছিল।
স্থানীয় লোকজন জানান, মন্দিরের একাংশের বর্তমান ভোগদখলকারী মৃধা অ্যান্ড কোম্পানি কিছু দিন আগে ভবনটির ছাদ ভাঙার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে। ছাদটি দ্রুত ভেঙেও ফেলা হয়। 
মৃধা অ্যান্ড কোম্পানির একজন অংশীদার মাহমুদ আলী মৃধা বলেন, মন্দিরটি তাঁরা ভাঙেননি। দুই মাস আগের ঝড়-বৃষ্টিতে তা ভেঙে গেছে। তবে গত সোমবার সেখানে নিয়োজিত শ্রমিক ও আশপাশের বাসিন্দারা বলেন, মন্দিরের ছাদ আয়োজন করেই ভাঙা হয়েছে।
মন্দিরের মূল অংশটির সামনের দিকে রয়েছে কারুকার্যমণ্ডিত পাঁচটি অর্ধবৃত্তাকার খিলান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দুটি হোল্ডিং নম্বরের মালিক কেদারনাথ শীল ও তাঁর ভাই পরিতোষ শীল ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারতে চলে যান। পরে বিভিন্ন সময় বিহারিসহ কয়েকজনের কাছে ওই সম্পত্তি লিজ দেওয়া হয়। এভাবে সম্পত্তির একাংশ মৃধা অ্যান্ড কোম্পানির হাতে আসে।
নগর সমন্বয় কমিটির সদস্য এবং ‘আরবান স্টাডি গ্রুপ’ নামের একটি সংরক্ষণকামী সংগঠনের প্রধান নির্বাহী স্থপতি তাইমুর ইসলাম ঘটনাস্থল ঘুরে প্রথম আলোকে জানান, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি ধ্রুপদি স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের স্থাপনা ধ্বংস করা শুধু দুঃখজনকই নয়, আমাদের জন্য চরম অগৌরবজনক।’
স্থাপত্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন শুক্রবার এ বিষয়ে বলেন, সংরক্ষিত বা ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলো রক্ষার সব প্রচেষ্টাই প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কথা ছিল রাজউক এ ধরনের ভবনের তালিকা করবে। সিটি করপোরেশন এ ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এখন তো সিটি করপোরেশনের কোনো মা-বাপ নেই।

বাংলাদেশেও হিন্দু নির্যাতনের জন্য ইস্যু হিসেবে দেখানো হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মিথ্যে গুজব ।

বাংলাদেশেও হিন্দু নির্যাতনের জন্য ইস্যু হিসেবে দেখানো হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মিথ্যে গুজব  
*সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের হাইস্কুল মাঠে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে 

মঞ্চস্থ করা হয়েছিল হুজুরে কেবলা নাটক যা মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অংশ বিশেষ যেখানে অভিনেতা ,স্ক্রিপ্ট রচয়িতা প্রায় সকলকেই ছিল মুসলিম শুধুমাত্র যে শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে হয়েছিল তিনি ছিলেন হিন্দু ,তাই নাটক মঞ্চস্থ করার দু দিন পর মহানবীকে কটাক্ষ করার গুজব রটিয়ে শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে করা হল মামলা,শুধু কি তাই মসজিদে লিফলেট বিতরণ করে দুই গ্রামের হিন্দুদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হল, ট্রলি করে লুট করে নিয়ে যাওয়া হল হিন্দুদের সব মালপত্র 
*চট্রগ্রামের হাটহাজারীতে লোকনাথ বাবার অনুষ্ঠানের র্যালি তে পাথর নিক্ষেপ করে উল্টো মসজিদে হামলার কথা বলে হিন্দুদের শারীরিক নির্যাতন করা হল এরপর দুই দিন ব্যাপী পুলিশের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক অবরোধ করে হাটহাজারীর সব মন্দির ধ্বংস করে মন্দিরের দান বাক্স ও মূল্যবান মালপত্র করা হল লুট করল আর উল্টো মুফতি আমিনীদের পক্ষ থেকে করা হল নিরীহ হিন্দুদের বিরুদ্ধে মামলা

*দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দুই হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে কিছুদিন আগেও হয়ে গিয়েছিল নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান এলাকার এক প্রভাবশালী হিন্দুর সুনামে ও সম্মানজনক পজিশনে ঈর্ষান্বিত অধ্যাপিকা হামিদা বানু দুই গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বলাইবাজারে জায়গা ক্রয় করে মার্কেট দেন এবং তিনি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন কিন্তু স্থানীয় হিন্দু গ্রামবাসী মুসলিম শুণ্য সরকারি রাস্তার জমিতে মসজিদে নির্মাণে আপত্তি জানাইলে হামিদা বানু হিন্দুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এবং তারপর পুলিশ মোতায়ণ করা হয় এবং 144জারি করা হয় ,কিন্তু পরদিন 144 থাকা সত্ত্বেও যখন সাধারণ Hinduরা যখন মাঠে কাজ করছিল তখন অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালানো যায় জালিয়ে দেওয়া ঘরবাড়ি আর এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল বহিরাগত এলাকার টেরোরিস্টদের ,এ বছর নিরাপত্তার অভাবে গোটা উপজেলার দূর্গা পুজো না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে

*সিলেটে একই সঙ্গে পুজো ও ঈদের শুভেচ্ছাস্বরুপ এক পাশে দুর্গার ত্রিনেত্র ও অপরপাশে মক্কার ছবি দেওয়া হলে ইউপি মেম্বার কে আটক করা হয়


সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার(ব্লাসফেমি)অভিযোগে আটক খ্রিষ্টান কিশোরী রিমশাকে কিছুদিন পূর্বে আটক করা হয়েছিল রিমশা কোরান পুড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম হাজী মোহাম্মদ খালিদ চিশতিতিনি দাবি করেন , রিমশার ব্যাগে কোরান শরীফের পোড়া অংশ রয়েছে এবং তল্লাশি করে তা পাওয়াও যায় ,তাই গত ১৬আগস্ট তাকে গ্রেফতার ও করা হয় কিন্তু পরে জানা যায় যে খালিদ ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েটিকে ফাঁসানোর জন্য ব্যাগে কাগজপত্র সরিয়ে কোরাণের ছেঁড়া অংশ প্রবেশ করে দেয় কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে অবশেষে গত শুক্রবার পাঁচ লাখ রুপির বিনিময়ে তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে আদালতউল্লেখ্য রিমশাই প্রথম ব্লাসফেমির মামলায় দেশটিতে জামিন পেলেন খবর-বিবিসি,রয়টার্স
 

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধাম

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধাম । ।এ মন্দিরের অধিষ্ঠিত ভগবান শিবের নাম এখানে চন্দ্রনাথ।এই মন্দির সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১২-১৩শ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

Chandranath Mandir at Chandranath Pahar, Sitakundu, chittagong

উল্লেখ আছে যে, শিবের স্ত্রী সতীর পিতা রাজা দক্ষ যগ্যানুষ্ঠান করছিলেন, কিন্তু তিনি জামাতা শিবকে ছাড়া আর সকল দেব-দেবীকে সে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন করেন।এই অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী সে যগ্যে আত্নাহূতি দিয়ে দেহত্যাগ করেন।ভগবান শিব তখন সতীর মৃতদেহনিয়ে প্রলয় নৃত্য করতে থাকেন।পুরো সৃষ্ট ধংস হবে দেখে ভগবান বিষ্ণু শিবের প্রলয় নৃত্য বন্ধ করার জন্য তার সুর্দশন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খন্ড খন্ড করে ফেলেদেন।এই দেহাবশেষ ৫১ খন্ড করে ৫১ স্থানে ফেলা হয়, তা থেকে ৫১ মাতৃপীঠ বা শক্তিপীঠের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসে (ইংরেজী ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাস) বড় মেলা হয় যা শিবর্তুদশী মেলা নামে পরিচিত।এ সময় দেশ-বিদেশের অনেক সাধু সন্যাসী এবং নর-নারী (বিশেষ করে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা থেকে)এখানে আসেন।এ সময় এই এলাকা প্রচুর জনাকীর্ণ হয়ে উঠে।

ধর্ম ঃ প্রসঙ্গ- (৮) অলৌকিকত্ব বা রূপকথা (মিথ)ঃ

অলৌকিকত্ব বা রূপকথা (মিথ)ঃ
অলৌকিকত্ব বা রূপকথা হলো ধর্মের তৃতীয় গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান। মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে শক্ত পোক্ত করার জন্য দৃশ্যমান প্রতিটি ধর্মের মাঝে এটি বিদ্যমান। যে সকল মানুষ জ্ঞানী বা বিদ্বান নয়, অথচ তাদের ধর্ম চিন্তার মূলে হলো বিশ্বাস, এধরনের মানুষ ধর্মের এ উপাদানটুকু ধারণ ও লালন করে ধর্ম চর্চা করতে পছন্দ করে।

অলৌকিকত্ব বা রূপকথা গুলো বর্তমানে প্রচলিত সকল ধর্ম ও উপধর্ম গুলোতেই বিদ্যমান। যেমন, হিন্দু ধর্মে পুরানে বর্ণিত আছে রাস রাজ রাবন রামের স্ত্রী সীতাকে হরন করে পুস্পক রথে আকাশ পথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিজ রাজ্য লংকায় নিয়ে গেছেন, কিংবা রাম সমুদ্রে পাথর ভাসিয়ে সেতু নির্মান করে সৈন্য নিয়ে লংকায় গিয়ে যুদ্ধ করেছে। মহাভারতে আছে অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের রথের সারথী সঞ্চয় রাজা সভায় রাজার পাশে বসে দিব্য দৃষ্টিতে যুদ্ধ ক্ষেত্রের সমস্ত ঘটনা অবলোকন করে রাজাকে শুনাচ্ছেন। এভাবে খ্রিষ্ট ধর্মেও আছে ঈশ্বর যীশু কয়েক টুকরা মাছ ও কয়েক খন্ড রুটি দিয়ে কয়েক হাজার লোককে পেট ভর্তি করে খাইয়েছেন। কিংবা ইসলাম ধর্মে আছে সবে মেরাজের ঘটনা, যেখানে মহানবী অর্ধেক মানবী আর অর্ধেক পাখাওয়ালা ঘোড়া নাম বোরাখে (বাস্তবে এধরনের প্রাণীর অস্তিত্ব নেই, অতীতে ছিল কি না, সে বিষয়ে কোন তথ্য প্রমান নেই) ছড়ে করে সপ্তম আসমানে গিয়ে আল্লার সাথে দেখা করে এসেছেন।

এ অলৌকিকত্ব গুলির কোন কোনটি কখনো কখনো বৈজ্ঞানিক ভাবে সত্য, কিংবা কোন কোনটি কল্প বিজ্ঞান যা কৌশলটি পরে আবিস্কৃত ও প্রমানিত হয়েছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কোন কোনটি এতটা অতিরঞ্জিত গাঁজাখুরি ভাবে উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, অথচ ধর্ম বিশ্বাসের কারনে কোন যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাস করতে হচ্ছে। তবে এটি জোর করে বলায় যায়, যে মিথ গুলোতে বৈজ্ঞানিক সম্ভবনা নাই, এগুলি গাঁজাখুরি গল্প ব্যতীত আর কিছু ভাববার অবকাশ নেই, যেটি শুধুমাত্র ছড়ানো হয়েছে মানুষে মনে ভীতি সঞ্চার করে মানুষকে নিজ মতবাদ প্রচার করার জন্য। আমি অন্য ধর্মে বিষয়ে না গিয়ে শুধু মাত্র হিন্দু ধর্মের কয়েকটি মিথ নিয়ে আলোচনা করব, এখন দেখব এগুলোর বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা ও সত্যতা কতটুকু ছিল।

হিন্দু ধর্মে অলৌকিকত্ব বা রূপকথা (মিথ)ঃ
অধুনা হিন্দু ধর্ম পূর্বে পৌরানিক ধর্ম বলা হয় এ জন্যে যে এর অনেক পুরোনো ইতিহাসের সাথে সাথে বহু পৌরানিক গল্প আছে যেগুলি অলৌকিকত্বে ভরা। যেমন রামায়নে আছে, রাবন সীতাকে হরন করে পুস্পক রথে করে আকাশ পথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে লঙ্কায় নিয়ে গেছে। আরো আছে রাম নিজ স্ত্রী সীতা মাকে উদ্ধারের জন্য পাথর দিয়ে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে পথ তৈরী করেছেন। এগুলো সাদামাটা দৃষ্টিতে গাঁজাখুরি গল্প মনে হলেও একটু খেয়াল করুন ১৯০০ শতকের প্রথম দিক থেকে কি মানুষ বিমানের মাধ্যমে আকাশ পথে চলাচল করে না? রাবনের সেই পুস্পক রথকে আজকের বিমান ভাবলে দেখবেন এটি অযথা কোন মিথ ছিল না। কিংবা আজকের নদী ও সমুদ্রের উপর বড় বড় বীজ্র গুলোর দিকে তাকালে রামের কার্যটিকে অসাধ্য কিংবা গাঁজাখুরি ছিল ভাবার দেখার সুযোগ নাই। এছাড়া নাসার ছবিতে ভারত মহাসাগরে এ ধরনের নিমর্জিত সেতুর অস্তিত্ব সাগর তলে বিদ্যামান। হিন্দুদের মহাভারতের যুদ্ধের শুরুতে অন্ধ ধৃষ্টরাষ্ট্র যুদ্ধের ঘটনা দেখার জন্য রাজার রথের সারথী সঞ্জয়কে রাজ প্রাসাদে নিয়োগ করা হয়েছিল, ঋষি ব্যসদেবের আশির্বাদে সারথী সঞ্জয় রাজপ্রাসাদে বসে কুরুত্রে যুদ্ধ অবলোকন করে সেটির ধারাভাষ্য বর্ণনা করে অন্ধ রাজাকে শুনিয়েছেন। এ ঘটনাটি মিথ ও হিন্দু পৌরানিক বিশ্বাস, কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে আমার কি দেখছি? টেলিভিশন ব্রড কাষ্ট কিংবা ইন্টারনেট স্কাইপির সাহায্যে কি আমরা ঘরে বসে অনেক দূরের ঘটনা প্রত্যে করছি না? এভাবে হিন্দু ধর্মের সকল মিথগুলির চির আধুনিক ও কল্প বৈজ্ঞানিক ভিক্তি খুব শক্ত পোক্তভাবে বিদ্যমান, যে গুলি অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে খুঁেজ পাওয়া ভার। এভাবে হিন্দু পুরানে প্রতিটি মিথের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। সময় পেলে হিন্দু পৌরানিক মিথ বনাম বিজ্ঞান, উইপনোলজী নামে কিছু লেখার প্রত্যাসা করি। **** অরুন চন্দ্র মজুমদার, ঢাকা, ১৩/১০/2012